আপনার সন্তানের সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে করনীয়

ফ্রীল্যান্সিং এর কাজ শুরুর ৩১ দিনের এই ধাপের আজ হলো পঞ্চম দিন

July 5, 2017 0

আপনার কাহিনী বলুন ফ্রীল্যান্সিং কাজ শুরুর ৩১দিনের এই ধাপে আজ হলো পঞ্চম দিন ( অথবা নিজেকে আরো ভালো ভাবে তৈরি করার দিন)। ১ম দিন সম্পর্কে বিস্তারিত>>

আপনি কি আপনার সন্তানের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চিন্তিত? জাঙ্ক ফুড ছাড়া অন্য খাবারে সে আগ্রহী নয়? নিচের টিপস গুলো আপনার সন্তানের সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কাজে লাগাতে পারেনঃ

একটি সময়সূচী অনুসরন করুনঃ শিশুদের প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া দরকার। তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি দুই বার হাল্কা নাস্তা এবং প্রচুর তরল খাবার দিতে হবে। তাহলে আপনার সন্তানের খাদ্য সুষম হবে এবং সে ক্ষুধার্ত ও খামখেয়ালি হবে না।

সব ধরনের খাদ্য উপাদানের সমন্বয় রাখুনঃ আপনার খাবারের মেনুতে সব ধরনের খাদ্য উপাদানের সমন্বয় রাখুন। এই ক্ষেত্রে খুব দামী কিছু নয়, সাধারন খাদ্য উপাদান যেমন রুটি, ভাত, একটি ফল, সবজি এবং প্রোটিনের উৎস হিসাবে পনির বা মটরশুটি, মাছ এগুলো যোগ করুন।

 সবার জন্য একই মেন্যু তৈরি করুনঃ পরিবারের সবার জন্য একই মেন্যু তৈরি করুন। কারন, শিশুরা অনুকরন প্রিয়, তারা ঘরের বড়দের যা খেতে দেখবে, সেটিই খাওয়ার প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠবে।

সন্তানকে তার নিজের মত খেতে দিনঃ খাওয়ার সময় তাদেরকে কোন প্রকার মন্তব্য বা জবরদস্তি করবেন না। তাদের নিজেদের মত খাবারটি খাওয়ার সুযোগ করে দিন।


ধীরে ধীরে নতুন খাবারের সাথে পরিচিত করানঃ বাচ্চারা এম্নিতেই নতুন ধরনের কোন খাবার সহজে খেতে চায়না। এই ক্ষেত্রে কৌশলী হন, তাদেরকে তাদের প্রিয় কোন কার্টুন বা মুভি চরিত্রের উদাহরন দিয়ে বলুন, তারাও বড় ও শক্তিশালী হতে এই খাবারটিই খায়। দেখবেন, আপনার সন্তান ও ওই খাবারের দিকে আকৃষ্ট হবে।

 সকালের নাস্তায় আঁশযুক্ত খাবার যুক্ত করুনঃ অধিকাংশ পরিবারে নিয়মিত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া হয়না, যা শরীরের জন্য খুব বেশী প্রয়োজন।এই ক্ষেত্রে সকালের নাস্তায় আঁশযুক্ত খাবার (ওটস, সেরিয়াল, কলা ইত্যাদি) খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

চিনির সাহায্য নিনঃ শিশুরা মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করে।ফল বা দুধ জাতীয় বিভিন্ন খাবারে চিনি মিশিয়ে তাদের খেতে দিন।

রান্নার সময় তাদের সাহায্য নিনঃ বাজার করতে সময় মাঝে মাঝে সন্তানদের সাথে নিতে পারেন এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি ও খাদ্য নির্বাচনে তাদের মতামত নিন। যারা একটু বড়, তাদের সবজি কাটতে বা সালাদ মিশানোতে কাজে লাগান। দেখবেন, নিজেদের পছন্দ করা বা নিজের হাতে করা খাবার গুলো খেতে তারা আগ্রহী হবে।

বাড়িতে জাঙ্ক ফুড আনবেন নাঃ মনে রাখবেন, আপনার ঘরে কি খাবার আসবে, তা আপনিই নির্বাচন করছেন, আপনার সন্তান নয়, তাই আপনি ঘরে যত বেশী জাঙ্ক ফুডগুলো রাখবেন, ততই সে ফল, সবজি বা অন্যান্য খাবারে অনুত্সাহী হবে।


ছাড় দিনঃ মাঝে মাঝে আপনার সন্তানদের তাদের পছন্দের ক্যান্ডি, সফট ড্রিংক বা ফাস্ট ফুড গুলো খেতে দিন। তাহলে তারা সবসময় ওইসব খাবারের দিকে আগ্রহী হবে না।

মজাদার করে তৈরি করুনঃ শিশুদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে, এমন ভাবে খাবারটি সাজিয়ে দিন, যেমনঃ বিভিন্ন রঙের সালাদ দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন, অথবা স্টার, হার্ট শেইপ দিয়ে কুকি তৈরি করে দিতে পারেন, অথবা বিভিন্ন ছোট ছোট খাবারের দিতে পারেন মজার কোন নাম। এইসব বিষয় তাদের আগ্রহ তৈরি করবে।

নিজেকে আদর্শ রুপে স্থাপন করুনঃ আপনার যথাযথ খাদ্যাভ্যাস আপনার সন্তান অনুসরন করবে। যদি আপনি অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চালিয়ে যান, তাহলে আপনার সন্তানও এটিকেই স্বাভাবিক বলে মনে করবে।

মনে রাখবেন, আপনার সন্তানেরা নিয়মিত কি সব ধরনের খাদ্য উপাদান সুষম ভাবে গ্রহন করছে কিনা, এটিই গুরুত্বপূর্ণ। যদি তারা মাঝে মাঝে বাইরে যেয়ে পপকর্ণ বা আইসক্রিম খেয়ে থাকে, তাহলে তাতে কিছুই আসে যায়না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের সুষম খাবার প্রদান করছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


Enjoy this blog? Please spread the word :)