মহামায়া লেকে ভ্রমণ করেছি যেভাবে : কি আছে মহামায়ায় Mohamaya Lake Tour A to Z

কোয়ালিটি আর্টিকেল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা! দুর করুন আজই

No Image

ওয়ার্ডপ্রেস ইনষ্টল নতুন ডোমেই পারচেজ

June 4, 2019 Sultana 0

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি একটি সিম্পল কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে। আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে বিস্তারিত>>

dav

ভ্রমণপিয়াসু পাঠক,

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শেয়ার করছি আজকের ভ্রমণ অবিজ্ঞতা।

ভ্রমনের স্থান: ঢাকা-চট্ট্রগাম হাইওয়ের ঠাকুরদিঘী বাজার হতে প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত মহামায়া ইকো পার্ক। ছোট বড় পাহাড়, হ্রদ, পরিষ্কার নীল জল, কলমদহ ঝর্না, বন-বনানী সবকিছু নিয়ে দারুন মনোরম এই প্রাকৃতিক ভ্রমন স্থান মহামায়া লেক

আশা করি সকলে ভাল আছেন, আনন্দে আছেন আর সেই আনন্দের পরিধি আরও একটু বাড়িয়ে দিতে আপনাদের এখন নিয়ে যাব বন্দর নগরী চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক লেক “মহামায়া ইকো পার্কে” র অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দরযের লীলাভুমিতে।

আজকের এই মহামায়ার মহা আয়োজনে থাকছে:

এটির লোকেশন,

দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে কিভাবে আসবেন,

সম্ভাব্য খরচ কত?

উপভোগের আইটেম সমূহ,

থাকছে মহামায়ার অন্যতম প্রধান আকর্শন নীলাভ জলরাশির বিস্তৃত লেকে নৌকা ভ্রমণ, মহামায়া ঝর্ণার পানিতে অবগাহন, কায়াকিং, ফিশিং বা মাছ ধরা ইত্যাদি।

মহামায়া টুরিষ্ট ‍স্পট ভ্রমনের পুরা ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে

এখানে ছোট্ট করে বলে রাখি, আমাদের এ আয়োজন যদি আপনার ভাল লেগে থাকে প্লিজ কমেন্টে জানাবেন। খারাপ লাগলে সেটাও জানাবেন।

তো, আসুন শুরু করা যাক।

প্রিয় পাঠক, আমরা আজ সারদিনের জন্য ভাড়া নিয়েছি একটি শীতাতম নিয়ন্ত্রিত ১টি মাইক্রো বাস এবং আমরা আছি ১০ জন আর ড্রাইভারসহ আমরা ১১ জন। প্রথমে ভিজিট করেছি কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার, বার্ড, এবং ময়নামতি যাদুঘর। এবং সেখান থেকে একটু আগেই ব্যাক করেছি মহামায়ার মায়ায়।

Lake View

প্রথমে চলে এসেছি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী বাজারে। এবং সেখান থেকে এগিয়ে যাচ্ছি দুই কিলোমিটার পূর্বদিকে মহামায়া ইকো পার্কের দিকে। দুপুরের খাবার আগেই সেরে নিয়েছি।  এখন পড়ন্ত বিকেলে এসিছি মহামায়ায়।

মহামায়া লেকে প্রবেশ ফি ২০ টকা

গেইট হতে মাথাপিছু ২০ টাকা দিয়ে টিকেট নেওয়া হয়েছে এবং আজ ব্যবস্থাপনায় আছে আমাদের শাহাজাহান ভাই।

টিকেট নিয়ে গেইট দিয়ে আমরা একে একে প্রবেশ করলাম এবং এখান থেকে মূল লেক পরযন্ত হেটেই যেতে হবে কারন এখান থেকে কোন গাড়ি অনুমোদিত নয়।

এর পর দুই পাশের ছোট ছোট টিলা/পাহাড় এবং সুন্দর সবুজ পাহাড়ী গাছ, লতাপাতা ও ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি মহামায়া লেকের দিকে।

Main Gate to Mohamaya Lake

চারদিকে পাহাড় ঘেরা নীল এবং পরিষ্কার পানির বিশাল এই লেক মহামায়া লেক, ডানে-বামে বিভিন্ন দিকে আঁকাবাঁকা হয়ে যে জলরাশি গেছে এবং আশেপাশের পাহাড় এবং গাছপালা সব মিলে এক অনুপম সৌন্দর্য আপনাকে নিয়ে যাবে ভাল লাগার অন্য এক ভুবনে।

আপনি ঢাকা বা দেশের যে কোন স্থান হতে চট্টগ্রাম এর মিরসরাই উপজেলার ঠাকুর দিঘি বাজারে আসুন। এখান থেকে প্রায় দেড়/দুই কিলোমিটার পূর্বে মহামায়া লেক অবস্থিত। এখান থেকে যদি সিএনজি তে যান তাহলে ২০ টাকা ভাড়া এবং সময়  লাগে মাত্র ১০ মিনিট।

এখানে ভ্রমণের জন্য ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত বোটের পাশাপাশি রয়েছে কায়াকিং বোট। ইঞ্জিনচালিত বোটের ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা কিন্তু জনপ্রতি 200 টাকা করে ও আপনি অন্যদের সাথে ভ্রমণ করতে পারেন।

পরিষ্কার নীলাভ জলরাশির বুক চিরে কলকল ধ্বনি আর সুরের মূর্ছনায় ক্ষনিকের জন্য পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে হারিয়ে যান আনন্দের ভূবনে।

মহামায়া লেকের পরিষ্কার নীল জলের বুক চিরে ছুটে চলা ইঞ্জিন ভোটের নৌকা ভ্রমন আপনার হৃদয়কে আলোড়িত করবে তৈরি করবে এক অনুভূতি।

দারুন মজার রোমান্টিক অনুভুতির কায়াকিং – এই রাইডিংটা উপভোগ করতে ভুলবেন না কিন্তু। ভয় পাওয়ার কিছু নাই। শান্ত লেক তাছাড়াও রয়েছে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট।

কায়াকিং এ একটি বোটে দুইজন রাইড করা যায় এবং প্রতি ঘন্টায় ভাড়া 300 টাকা কিন্তু ছাত্রদের জন্য মাত্র ২০০ টাকা।

এই ফাকে আসুন জেনে নেই কিছু তথ্যগত বিষয়।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া যার আয়তন 11 বর্গ কিলোমিটার।

চট্টগ্রাম শহরের Alongkar Mor Bus Stop  থেকে 60 কিলোমিটার উত্তরে মিরসরাই উপজেলার অন্তর্গত ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন । এখানকার ঠাকুরদিঘি বাজার থেকে প্রায় ২ কিঃমি পূর্বে অবস্থিত মহামায়া লেক।

তো এখানে আপনি যদি সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবহার করতে চান তাহলে সিএনজি থেকে ওখানে ভাড়া মাত্র 20 টাকা সময় লাগে 10 মিনিটের মত। আমরা লেকের মেইন গেইটের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

২০ টাকার টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হয়। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই গেইট দিয়ে আপনি শুধুমাত্র পায়ে হেটে যেতে পারবেন, কোন জানবাহন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নাই।

এই লেকের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড

আমাদের নেতৃত্বে আছেন আমাদের প্রিয় শাহজাহান ভাই। না, উনি সম্রাট শাহজাহান নয় কারন উনার একজন মমতাজ এখনও জীবিত।

সকল কিছুর ম্যানেজমেন্টের গুরুদায়িত্ব তার।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে লেকে বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় বোট রয়েছে যেগুলি 10 থেকে 15 জন ভ্রমণ করা যায়।

তো ছোট বোটগুলি অনেক সময় মনে হয় ডুবে যাবে কিন্তু আসলে ডুবে যাওয়ার মতো নয় কারন এগুলি কাঠের তৈরি।

আমরা আলরেডি স্টার্ট করেছি স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে এবং আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি প্রধান আকর্ষণ মহামায়া লেক এর অপর প্রান্তের নয়নাভিরাম উচ্ছল ঝরনার দিকে।

সবাই মহামায়ার মহা রুপে মুগ্ধ এবং সবাই ব্যস্ত সেলফি আর ছবি তোলায় কার এমন সুন্দর মুহুর্ত ধরে রাখতে কে না চায়!

LakeView

আমাদের বোটটি স্টার্ট করেছে, ধীরে ধীরে নীল পানির বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছি অপর প্রান্তে অবস্থিত ঝর্ণার দিকে। আমরা এসেছি একটি পড়ন্ত বিকেলে; আমাদের একটু লেট হয়েছে কারণ আমরা আজকে সারাদিন কুমিল্লার শালবন বিহার, বার্ড এবং ময়নামতি জাদুঘর ভ্রমণ করেছি সেটা শেষ করে হঠাৎ সিদ্ধান্ত হয় চট্টগ্রাম ফিরতি পথে মহামায়া টাচ করে যাব।

যে কথা সেই কাজ। এই মহামায় প্ল্যানের উপস্থাপক আমাদের টিম লিডার শাহজাহান ভাইকে এক বস্তা ধন্যবাদ।

আমরা লেকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দুই পাশের সবুজ গাছপালা বন বনানী এবং ছোট বড় পাহাড় এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে, যা বলে বোঝানো যাবে না। ভিডিওতে দেখুন।

আসলে এত সুন্দর মুহূর্ত সবাই ক্যামেরা বন্দি করে রাখতে চায়। দেখুন আমরা একটির পর একটি বাক পার হয়ে পরবর্তী গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছি। সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এলাকা।

খুবই মনোরম দৃশ্য এখানে যে কেউ আসলেই একটু নস্টালজিক হয়ে যাবেন। এবং রোমান্টিক এক জগতের পদচারণা তাকে আকৃষ্ট করবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

দেখুন দর্শক, পরিকল্পনা করে ফেলুন আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে কবে আসতে চাচ্ছেন।

mirsharai travel places
বোটের উপর

এই ফাঁকে একটু বলে রাখি আসলে আমরা এসেছি খানিকটা অফ সিজনে। লেকের পানি বেশ কমে এসেছে। সুতরাং আপনি বর্ষার শুরু, বা ভরা বর্ষায় অথবা বর্ষা সিজন শেষ হচ্ছে এমন মুহূর্তে আসবেন, তাহলে আপনি পাবেন জলে টইটুম্বুর আরো প্রাণবন্ত মহামায়া।

দর্শক বৃন্দ, আমরা একটির পর একটি ছোট বড় বাক পেরিয়ে এই পরিষ্কার স্বচ্ছ নীল জলরাশি বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছি মহালেকের প্রধান আকর্ষণ মহামায়া ঝর্ণার দিকে। হ্যাঁ, আমাদের নেক্সট গন্তব্য যে ঝর্ণার আমরা সেদিকে যাচ্ছি, তার বিপরীত দিক থেকে একটি বোট কয়েকজন পর্যটক নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসছে। আসলে এই ছুটে চলা গুলো খুবই সুন্দর লাগে আমি সিওর আপনারা উপভোগ করবেন দেখতে থাকুন মহামায়ার সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য। লেকের ঢেউ, এবং অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যায় খুব সুন্দর লাগে।

মহামায়া ইকো পার্ক
মহামায়া ইকো পার্ক

আসলে আপনারা যারা ফয়েজ লেক ভ্রমণ করেছেন তারা বুঝতে পারবেন যে লেকের সৌন্দর্যের প্রধান বিষয় হচ্ছে এই ছোট বড় বাক, পরিষ্কার নীল জলরাশি এবং তার ডানে-বামের সবুজ বন-বনানী। আগেই বলেছি যে আমরা আসলে আসতে একটু লেট করে ফেলেছি তো সেজন্যই আলোর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

মহামায়ার উচ্ছল ঝর্ণার পানিতে সবাই নাচানাচি, গোসল, ভিডিও আর সেলফি করছে, যেন আনন্দে আত্মহারা।

তারপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম কায়াকিং যা উপেভোগ না করলেই নয়।

Be the first to comment

Leave a Reply