কর্মজীবী মায়েরা কিভাবে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখবেন

প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন শায়খুল হাদীস মুফতী আমিনীর ইন্তিকাল

September 12, 2016 1

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর, জামিয়া কুরআনিয়া আরবিয়া লালবাগের সুযোগ্য প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস প্রখ্যাত হাদীস ও আইন বিশারদ, দেশবরেণ্য আলেম ও বিস্তারিত>>

কর্মজীবী মায়েদের জন্য পরিবার ও চাকরি দুটোই একসাথে সমন্বয় সাধন করা খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। ঘর বা চাকরি কোন দিকেই পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারছেন না, এই ধরনের অপরাধ বোধও অনেক সময় তাদের মধ্যে কাজ করে। কিন্তু একজন কর্মজীবী মা তার পরিকল্পনার উপর যথাযথ ভাবে লক্ষ্য রেখে, সুসংগঠিত উপায়ে তার সংসার ও কর্মক্ষেত্রকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
6872391181_00e4d476ce_b
১। অপরাধ বোধে ভুগবেন নাঃ

আপনার সন্তানকে সময় দিতে পারছেন না, এটা ভেবে নিজেকে অপরাধী না করে বরং ভাবুন, আপনার কাজ কিভাবে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। আপনি যে কাজ করছেন, তার মধ্য দিয়ে সন্তানের সকল প্রয়োজন, শিক্ষা ও সঞ্চয়ের পথ নিশ্চিত করছেন।

২। ভালো মানের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের খোঁজ নিনঃ

বর্তমানে একান্নবর্তী পরিবার প্রথা কমে যাওয়ায় এবং একক পরিবারের কারনে অনেক সময় মায়েরা সন্তানকে ঘরে রেখে যেতে পারছেন না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি কোন ভাল মানের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। প্রয়োজনে ওই শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে যেয়ে কিছু সময় কাটান এবং তাদের সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

৩। সকালের শুরুটা সহজ করে নিনঃ

আগের দিন রাতেই আপনার নিজের ও সন্তানের কাপড় ইস্ত্রি করে নিন ও সকালের নাস্তা তৈরির উপকরন গুছিয়ে রাখুন। দুই জনের ব্যাগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো দরজার পাশে রেখে দিন, যেন সকালে বাইরে যেতে সময় দ্রুত নিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন। সকালে নাস্তা তৈরি, বাচ্চাকে কে স্কুলে নিয়ে যাবেন, দোকানের জিনিসপত্র গুলো কে কিনে আনবেন – এই জাতীয় কাজ গুলো সব স্বামী ও স্ত্রী দুই জনে মিলে কে কোনটা করবেন, তা আগেই ঠিক করে নিন।

bigstock-helping-with-homework-96305378

 

৪। পারিবারিক কাজের কর্ম তালিকা তৈরি রাখুনঃ

আপনার পরিবারের প্রয়োজনীয়তার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের তালিকা তৈরি করুন। বিল কখন পরিশোধ করবেন, বাচ্চাদের টুকিটাকি কাজ, স্কুল ও পারিবারিক অনুষ্ঠান, পাঠক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম, জন্মদিন, ইত্যাদি এখানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। প্রতি শুক্রবার বা বন্ধের দিন ১৫ মিনিট বসে এই তালিকাতে চোখ বুলিয়ে নিন। এর ফলে আপনি আচমকা এসে পরা কাজের ঝামেলা হতে বাঁচবেন।

৪। আপনার নিয়োগকর্তার সাথে মত বিনিময় করুনঃ

আপনার নিয়োগকর্তার সাথে যতদূর সম্ভব, সৎ ও স্বচ্ছ থাকুন। তাদের মন মানসিকতা বুঝে আপনার প্রয়োজন বা চাহিদা তাদেরকে জানান এবং ছুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনে তাদের নিশ্চিত করুন যে, আপনি আপনার কাজ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেই ছুটি নিচ্ছেন।

৫। দূরত্ব কমিয়ে আনুনঃ

আপনার কাজের ফাঁকে যত টুকু সম্ভব, সন্তানের সাথে যোগাযোগ রাখুন। যেদিন তার স্কুলে কোন বিশেষ অনুষ্ঠান থাকবে, চেষ্টা করুন ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকতে। সন্তানের সাথে কাটানো সময় গুলোর ছবি তুলে বা রেকর্ডিং করে রাখুন এবং পড়ে এক সাথে উপভোগ করুন।

৬। সময়ের অপচয় না করে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানঃ

আপনার মেইল চেক করা বা ফোন করার কাজ গুলো যখন আপনার সন্তান ঘুমিয়ে থাকে, তখন সেরে নিন। আপনার সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় অন্য কাজ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কর্মক্ষেত্রে সময়ের অপচয় না করার চেষ্টা করবেন। সহকর্মীদের সাথে আড্ডা মেরে, ওহেতুক ইমেইল আদান প্রদান বা ইন্টারনেট সার্ফিং করে সময় কাটাবেন না, এর ফলে আপনি নিজেকে কম উৎপাদনশীল হিসেবে প্রমান করবেন। কাজের দিকে মনযোগী হন এবং মধ্যাহ্নভোজের সময় সহকর্মীদের সাথে আলাপ সেরে নিন।

৭। বিশেষ পরিবারিক কার্যক্রম তৈরি করুনঃ

পারিবারিক বন্ধন আরও মজবুত করতে সপ্তাহের প্রতিটি দিন এবং বিশেষত বন্ধের দিন পরিবারের সাথে কিছু একান্ত সময় কাটান। আপনার যদি হাতে সময় কম থাকে, তাহলে সকালের নাস্তা বা রাতের খাবার সবাই একসাথে করুন। রাতে সবাই মিলে এক সাথে কোন সিনেমা দেখতে পারেন। এই জাতীয় কাজ গুলো যেন নিয়মিত ভাবে করা হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখুন। সবাই মিলে যখন এক সাথে বাইরে ঘুরতে যাবেন, তখন অফিসের গল্প না করে বা ফোনে ব্যস্ত না হয়ে বরং সন্তানদের বিভিন্ন শখ, তাদের বন্ধু বান্ধব বা ক্লাসের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করুন। মোট কথায়, তাদের ভাল লাগা বিষয় গুলোর দিকে গুরুত্ব দিন।

f360bce0f2321dd

৮। আপনার সঙ্গীকে সময় দিনঃ

আপনার সঙ্গীকে পর্যাপ্ত সময় দিন, কারন তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সব সময় আপনার পাশে থেকে আপনাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। দুই জনে মিলে মাঝে মাঝে বাইরে কোথাও ঘুরে আসুন, অথবা ঘরেই কোন বিশেষ মেন্যু তৈরি করে দুই জনে বসে এক সাথে উপভোগ করুন। খেয়াল রাখবেন, আপনার ঘর ও অফিসার কাজের কারনে তিনি যেন উপেক্ষিত না থাকেন।

৯। নিজের জন্য সময় তৈরি করুনঃ

যথাযথ ভাবে সময় পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনি নিজের জন্য ও কিছু সময় খুজে নিতে পারেন। সব কাজ থেকে বিরতি নিয়ে নিজেকে কিছু সময় দিন, এর ফলে আপনি আবার সতেজ হয়ে উঠবেন এবং নতুন উদ্দ্যমে কাজে ফিরে আসার উৎসাহ পাবেন। আপনার ভাল লাগার মত কিছু কাজ খুজে নিন। নিজের প্রিয় কোন বই পড়ুন, ঘুমানোর আগে একটা ভালো উষ্ণ স্নান সেরে নিন বা কোন বন্ধের দিন স্পা করিয়ে নিন।

yoga_-_pcos

স্বাস্থ্যকর খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুম আর হাল্কা ব্যায়াম করুন। অফিস ও ঘরের কাজের কারনে যদি আপনি খিটখিটে হয়ে উঠেন, তাহলে আপনি একজন ভাল মা ও ভাল স্ত্রী হয়ে উঠতে পারবেন না। এক কথায়, নিজেকে উজ্জীবিত করার মত সময় খুজে নিন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


Enjoy this blog? Please spread the word :)