বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও গ্রেডিং পদ্ধতি

কোয়ালিটি আর্টিকেল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা! দুর করুন আজই

Printing Service In Dhaka

ডিজাইন, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং সেবা দিচ্ছে ক্যানভাস

November 25, 2019 Mesbah Munna 0

ডিজাইন, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানভাস নিয়ে এসেছে বিজনেস কার্ড, লেটারপ্যাড, ইনভেলপ, মানি রিসিট, ভাউচার, নোটপ্যাড, ব্যানার, স্টিকার, টিশার্ট, মগ, আইডি কার্ড ইত্যাদি। Printing Service In Dhaka

গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন সংগঠিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক(পাস), স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় জিপিএ পদ্ধতিতে শিক্ষা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ১৯৯১ সালে বুয়েটে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০০১ সালে এস,এস, সি, এবং ২০০৩ সালে এইচ, এস, সি তে চালু করা হয়।

গ্রেডিং পদ্ধতি কেন?
• মার্ক পদ্ধতিতে কিছু কারণে মেধার প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছিল না । একই খাতা বিভিন্ন শিক্ষক বিভিন্ন রকম ভাবে মার্কিং করতে পারেন। তাছাড়াও, বিভিন্ন বছর প্রশ্ন বিভিন্ন রকম হবার ফলে একই মান ও জ্ঞান সম্পন্ন একজন ছাত্র দুই বছর দুই রকম রেজাল্ট করতে পারে। আবার একই ছাত্র একই বছর দুই বোর্ডে পরীক্ষা দিলে সম্পূর্ন দুই ধরনের রেজাল্ট পায়। এর ফলে ছাত্ররা অবমুল্যায়নের স্বীকার হচ্ছিল । গ্রেড পদ্ধতির কারনে দেখা গেল যে, বিভিন্ন শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন মার্কিং এর সমস্যা অনেকাংশে কমে গেলো। এবং কিছু মার্কের পার্থক্যের জন্য যে অবমুল্যায়নের ব্যাপার, সেটি আর থাকলো না।
• পাসের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেকের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। অনেকের নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নও পূরণ হচ্ছে। পাশাপাশি দেশকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নেয়ার মতো মেধাবী জনগোষ্ঠিও তৈরী হচ্ছে ।
চলমান এ গ্রেডিং পদ্ধতি বা ধারার সুবিধা যা-ই থাকুক, এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক দিকও রয়েছে।
• এটি আমাদের অনেক অতিমেধাবী শিক্ষার্থীকে দিন দিন চ্যালেঞ্জ-বিমুখ করে তুলছে। এখনকার গ্রেডিং পদ্ধতিতে বিষয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ গ্রেড পেতে শিক্ষার্থীরা ৮০ ভাগ মার্কস পেলেই তাদের লক্ষ্য সাধিত হয়। সুতরাং অনেক অতিমেধাবী শিক্ষার্থী ৮০ ভাগকেই তাদের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পরিধি ওই ৮০ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখে চলেছে। ৮০ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি মেধাবী ৯০/৯৫ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী। ৩০/৪০ এর পরে আরো ১০/৫ নম্বর বেশি পাওয়া, আর ৮০/৯০ এর পরে আরো ১০/৫ নম্বর বেশি পাওয়া কিন্তু এক কথা নয়। সকল বিষয়ে ৯৫ করে পাওয়া যেমন কঠিন তেমন তার মূল্যায়নও হওয়া উচিত পরিপূর্ণ। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা ৮০ নম্বরের পরে আর ১০০ নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করবে কেন?সকল বিষয়ে/পত্রে ১০০ নম্বর করে পেলে তাকেও দেওয়া হচ্ছে জিপিএ-৫ বা এ+। এ ব্যবস্থার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই ধীরে ধীরে চ্যালেঞ্জ-বিমুখ হয়ে উঠছে।
• গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু ক্ষেত্রে প্রকাশিত ফলাফল সরাসরি সহায়ক না হওয়া হল আরেকটি নেতিবাচক দিক। ২০০৯ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৯৩৪। ২০১০ সালে ৬২ হাজার ১৩৪, ২০১১-তে ৬২ হাজার ৭৮৮, ২০১২-তে ৬৫ হাজার ২৫২, ২০১৩-তে ৯১ হাজার ২২৬ ও সর্বশেষ ২০১৪-তে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬। এখানে শীর্ষ গ্রেডধারীর সংখ্যা এত বেশি যে এসএসসি-পরবর্তী সীমিত আসনের ভর্তিতে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে।
• অগনিত এ+ ধারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ও সরকারের জন্য কঠিন হবে।
সুতরাং আমাদের চলমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে কিছু সংযোজন/পরিবর্তন করা উচিত।

Untitled
• শীর্ষ গ্রেডের মার্কস রেঞ্জটি ৮০-১০০-এর পরিবর্তে ৯৫-১০০ অথবা ৯০-১০০-তে উন্নীত করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তায় ৯৫-১০০ যথার্থ হবে বলে মনে করা হয় । যদি মার্কস এর রেঞ্জ এই পর্যায়ে উন্নীত করা হয়, তাহলে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ জ্ঞান আয়ত্ত করার চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠবে।
• ১০টি গ্রেড পয়েন্ট ভিত্তিক ১২টি স্তরে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা।
চলমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন বা পরিবর্তন সাধন ছাড়াও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে উপযুক্ত নীতিমালার প্রয়োগ এবং অবশেষে প্রশ্নপত্রের পূর্ণ নিরাপত্তা আনার লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ, এই বিষয় গুলোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সদয় দৃষ্টি দিবেন বলেই আমরা আশা করি ।

Be the first to comment

Leave a Reply